মার্জিন ঋণ শুধু লাভ নয়, লোকসানও দ্বিগুণ করতে পারে
অনেকে ভাবেন, ধার নিলে বেশি টাকা খাটবে, তাই লাভও বেশি হবে। কিন্তু বাজার পড়লে ঘটে উল্টোটা: আপনার ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়, সুদ চলতেই থাকে, আর মার্জিন কলের কারণে একদম তলানিতে শেয়ার বিক্রি করতে হতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝে নিন।
বাংলাদেশে প্রতি ৫টি মার্জিন অ্যাকাউন্টের ১টিতে দেনা পুরো পোর্টফোলিওর মূল্যের চেয়েও বেশি।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২৬ আগস্ট ২০২৫ (৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত হিসাব) ও ২১ জুলাই ২০২৬ (বিএসইসি প্রতিবেদন, মে ২০২৬)।
ধারের টাকায় বেশি শেয়ার কেনা যায়, কিন্তু পুরো ঝুঁকি আপনার
আপনার সঞ্চয়, শেয়ারে বিনিয়োগ।
ব্রোকারের কাছ থেকে ধার। পরিশোধ না করা পর্যন্ত সুদ দিতে হয়।
লাভ-লোকসান হয় ৳১৫ লাখের ওপর, কিন্তু আপনার নিজের মাত্র ৳১০ লাখ।
বিপদসীমা ১: মার্জিন কল
আপনার ইকুইটি (শেয়ারের মূল্য বাদ দেনা) যদি দেনার ৫০%-এর নিচে নেমে যায়, তাহলে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে আরও টাকা জমা দিতে হবে।
বিপদসীমা ২: ফোর্সড সেল
ইকুইটি যদি দেনার ২৫%-এর নিচে নামে, তাহলে আপনার শেয়ার কোনো নোটিশ ছাড়াই বিক্রি হয়ে যেতে পারে, সাধারণত সবচেয়ে কম দামে।
বাজার ৫০% পড়ে গেল। কে টিকে থাকবেন?
একই সঞ্চয়, একই শেয়ার, একই দরপতন। পার্থক্য শুধু ৳৫ লাখের মার্জিন ঋণ।
বিনিয়োগকারী ক
বিনিয়োগকারী খ
বিনিয়োগকারী ক
বিনিয়োগকারী খ
বিনিয়োগকারী ক
বিনিয়োগকারী খ
উদাহরণে ঋণের সুদ বছরে ১৫% এবং বিএসইসির সংশোধিত মার্জিন কল (৫০%) ও ফোর্সড সেল (২৫%) সীমা ধরা হয়েছে। এটাও ধরা হয়েছে যে খ-এর জমা দেওয়া টাকা ঋণ পরিশোধে যায় এবং বাজার আর পড়ে না। আরও পড়লে খ-কে আবার মার্জিন কলের মুখে পড়তে হবে।
আপনার বিপদসীমা কোথায়, দেখে নিন
স্লাইডার সরিয়ে দেখুন: নিজের টাকায় বিনিয়োগকারীর তুলনায় ঋণ নেওয়া বিনিয়োগকারী কত দ্রুত মার্জিন কলে পৌঁছে যান।
বিএসইসি সর্বোচ্চ ১:১ অনুমতি দেয়, অর্থাৎ নিজের টাকার সমান পর্যন্ত।
আপনার প্রকৃত হার মার্জিন চুক্তিতে নির্ধারিত হয়।
শুধু নিজের টাকা
কোনো চাপ নেই
মার্জিন ঋণসহ
কোনো চাপ নেই
তুলনা করতে স্লাইডার সরান।
সবুজ আপনার টাকা, লাল ঋণ। দেখানো মেয়াদের সরল সুদ ধরা হয়েছে। এটি শুধু বোঝানোর জন্য।
মার্জিন ঋণের লুকানো খরচ
সুদ কখনো থামে না
শেয়ারের দাম বাড়ুক, কমুক বা একই থাকুক, প্রতিদিন সুদ দিতে হয়। বাজার স্থির থাকলেও শুধু ধরে রেখেই টাকা হারান।
ধরে রাখার ক্ষমতা কমে
নিজের টাকা বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে পারে। ঋণের একটা সময়সীমা থাকে। বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, কিন্তু ততদিনে হয়তো আপনাকে বাধ্য হয়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছে।
মার্জিন কলে নগদ টাকা লাগে
দাম পড়লে আরও টাকা জোগাড় করতে হয়, ঠিক যখন আপনি সস্তায় শেয়ার কিনতে চাইতেন।
তলানিতে বিক্রি
দাম যখন সবচেয়ে কম, তখনই ফোর্সড সেল হয়। সাময়িক দরপতন তখন স্থায়ী লোকসানে পরিণত হয়।
যেন চোরাবালি
প্রতিটি মার্জিন কল আরও গভীরে টানে: আরও জমা, আরও সুদ, আরও কম ইকুইটি। অনেকে বছরের পর বছর আটকে থাকেন।
মানসিক চাপ সত্যি
ঋণ আপনার সঞ্চয় খেয়ে ফেলছে, এটা দেখা অসহনীয়। নির্ঘুম রাত, পরিবারের চাপ আর সারাক্ষণ দুশ্চিন্তাও এক ধরনের খরচ, আর কোনো মুনাফাই এর যোগ্য নয়।
লোভ নিয়ন্ত্রণ করুন। কষ্টার্জিত টাকা রক্ষা করুন।
আমাদের সোনালি নিয়ম
আমরা আমাদের গ্রাহকদের যা বলি।
- এমন টাকাই বিনিয়োগ করুন, যা আগামী কয়েক বছর আপনার লাগবে না
- বাজারের বাইরে জরুরি তহবিল রাখুন
- ধাপে ধাপে কিনুন। দাম পড়লে আরও কেনার জন্য নগদ টাকা হাতে রাখুন
- ভালো কোম্পানি ও বিভিন্ন খাতে টাকা ছড়িয়ে রাখুন
- কেনার আগেই পরিকল্পনা ঠিক করুন, আর তা মেনে চলুন
- গুজব শুনে বা লোকসান পোষাতে কখনো ধার করবেন না
এরপরও মার্জিন ঋণ চান?
মিকা সিকিউরিটিজ আপনাকে সহায়তা করতে পারে। সই করার আগে আমরা চুক্তি, সুদ ও ঝুঁকি পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে বলব। বিএসইসির সংশোধিত মার্জিন রুলস অনুযায়ী:
আমাদের পরামর্শ: ঋণ নিলেও সর্বোচ্চ সীমার অনেক কম নিন, আর মার্জিন কলের জন্য আলাদা নগদ টাকা রাখুন।
মার্জিন ঋণের কথা ভাবছেন?
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের টিমের সঙ্গে কথা বলুন। আপনার পোর্টফোলিও ও লক্ষ্য দেখে আমরা সৎ মতামত দেব, প্রয়োজনে ঋণ না নেওয়ার পরামর্শও দেব।
হোয়াটসঅ্যাপ+880 1730-062188
কল করুন+880 1730-062188 · রবি–বৃহস্পতি, সকাল ৯:৩০ – বিকাল ৫:০০
আমাদের বার্তা পাঠান
* চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।
মার্জিন ঋণ নিয়ে প্রশ্ন
মার্জিন কল কী?
আরও টাকা জমা দেওয়ার দাবি। বিএসইসির সংশোধিত মার্জিন রুলস অনুযায়ী, আপনার ইকুইটি (শেয়ারের মূল্য বাদ দেনা) মার্জিন ঋণের ৫০%-এর নিচে নামলে এটি হয়। জমা দিতে ৩ কার্যদিবস সময় পাবেন; না দিলে আপনার শেয়ার বিক্রি হয়ে যেতে পারে।
ফোর্সড সেল কী?
ইকুইটি দেনার ২৫%-এর নিচে নামলে ঋণ শোধ করতে নোটিশ ছাড়াই আপনার শেয়ার বিক্রি করা যেতে পারে। সাধারণত দাম যখন সবচেয়ে কম, তখনই এটি ঘটে, তাই লোকসান স্থায়ী হয়ে যায়।
বাজার কতটা পড়লে মার্জিন কল হয়?
এটা নির্ভর করে কত ধার নিয়েছেন এবং কতদিন ধরে রেখেছেন তার ওপর। নিজের ৳১০ লাখ ও ৳৫ লাখ ঋণে প্রায় ৫০% দরপতনে মার্জিন কল হয়, এক বছরের সুদ যোগ হলে প্রায় ৪৩%-এ। পুরো ১:১ ধার নিলে প্রায় ২৫% দরপতনই যথেষ্ট, এক বছরের সুদসহ মাত্র ১৪%। ওপরের সিমুলেটরে দেখে নিন।
কত টাকা ধার নিতে পারি?
‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির যোগ্য শেয়ারে (পিই সর্বোচ্চ ৪০) নিজের ইকুইটির সমান, অর্থাৎ ১:১ পর্যন্ত। নিজের ন্যূনতম বিনিয়োগ ৳৩ লাখ। আমরা সাধারণত সর্বোচ্চ সীমার অনেক কম নেওয়ার পরামর্শ দিই।
মার্জিন ঋণ কি টাকা বাড়ানোর দ্রুত উপায় নয়?
শুধু তখনই, যখন দাম দ্রুত বাড়ে এবং বাড়তেই থাকে। দাম পড়লে লোকসান দ্রুত বাড়ে, সুদ চলতেই থাকে, আর আপনাকে বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হতে পারে। আমাদের অভিজ্ঞতায়, বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী ধৈর্য ধরে নিজের টাকায় বিনিয়োগ করে এবং কম দামে কেনার জন্য নগদ রেখে ভালো করেন।
শৃঙ্খলা নিয়ে বিনিয়োগ করুন। নিশ্চিন্তে থাকুন।
নিজের টাকায়, নিজের গতিতে সম্পদ গড়ুন। পাশে আছে মিকা সিকিউরিটিজ।
*মিকা সিকিউরিটিজের নিজস্ব মার্জিন গ্রাহকদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে; পুরো বাজারের পরিসংখ্যান নয়। বাজারের তথ্য: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (২৬ আগস্ট ২০২৫; ২১ জুলাই ২০২৬, বিএসইসির উদ্ধৃতি)। নিয়ম: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে প্রকাশিত বিএসইসির সংশোধিত মার্জিন রুলস (১৯ আগস্ট ২০২৬); সীমা পরিবর্তিত হতে পারে, আর আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত আপনার মার্জিন চুক্তিতে নির্ধারিত। উদাহরণগুলো শুধু বোঝানোর জন্য, বছরে ১৫% সুদ ধরে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। মিকা সিকিউরিটিজ লিমিটেড ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেক-ধারী স্টক ব্রোকার (ট্রেক নং ২১৫) এবং সিডিবিএল ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট।
